Saturday, July 18, 2009

প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই করে বাঁচতে হবে....স্বপন হালদার


আয়লার আক্রমনে দুই ২৪ পরগনার নদী বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারী মতে ভেঙ্গে যাওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ মেরামত হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তব ঘটনা অন্য কথা বলে।
বাঁধ দ্রুত সারাবার জন্য, লক্ষ লক্ষ বাঁশ এবং প্রচুর পরিমান মাটির ব্যাবহার করা হয়েছে। নদীর ক্রমাগত চোরা ঢেউয়ের আঘাতে, মাটির বাঁধ কতটা নিরাপদ? কিন্তু বাঁধের আস-পাস থেকে প্রচুর পরিমানে মাটি তুলে নেওয়ায় ঐ আঞ্চলের বাঁধ আগের মতই বিপদজনক অবস্থায় রয়ে গেছে।
অনেকের মতে সুন্দর বনকে রক্ষা করার জন্য নদী তীর বরাবর কংক্রীটের বাঁধ তৈরী করার কথা বলেছেন। বাঁধ ভাঙছে নদীর তলদেশের চোরা স্রোতে। বাঁধের নিচের নরম মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় নদীর ধারে মাটির বাঁধ আর শক্ত হয়ে দাড়াতে পারছেনা। তাছাড়া, ৩৫০০,কিমি দীর্ঘ এলাকা নদীর বাঁধ ঢালাই দেওয়া সম্ভব নয়।
দশ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছে চাওয়া হয়েছে। এই টাকা পেলে দুর্নীতি আরো বৃদ্ধি পাবে। কারণ,স্থানীয় বাঁধ দেবার জন্য চাই,সততা এবং দায়বদ্ধতা। সুন্দর বনের বাঁধ রক্ষার জন্য সেচ দপ্তরের বিভিন্ন আমলা এবং দুর্নীতি গ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া উচিত।
অবশ্য এটা ঠিক যে, সমুদ্র-নদীর নোনা জল যাতে কৃষি জমিতে ঢুকতে না পারে তার জন্য চাই স্থায়ী বাঁধ। প্রয়োজনে গ্রামের বুকে ছোট বড় পুকুর খনন করে জল অতিরিক্ত জলকে ধরে রাখার ব্যাবস্থা করা যেতে পারে। ঐ জমা জলকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে দূষন মুক্ত করলে চাষ বাস এবং পানীয় জলের সমস্যা দুর হবে। এতে বিভিন্ন দপ্তরে কাজের সুযোগও সৃষ্টি হবে। সুন্দর বনকে রক্ষা করতে প্রয়োজন কোটি কোটি বিভিন্ন প্রজাতির ম্যানগ্রোভ গাছ। এই বাদাবনের মাধ্যমেই বাঁচবে নদীর বাঁধ। তবে, বিশেষ প্রয়োজনে মাটির চরিত্র বুঝে কংক্রীটের কিছু দেওয়াল গড়া যেতে পারে।
হিঙ্গল গঞ্জ, সন্দেশখালি, সাগর দ্বীপ,পাথর প্রতিমা, নামখানা, গোসাবা, কুলতলী, রায়দিঘী, কঙ্কনদিঘী, সামশেরগঞ্জ, ছোটমোল্লাখালি, বড়মোল্লাখালি, ভাঙনখালি, প্রভৃতি অঞ্চলে বাসস্থান সমস্যা আছে। বেশির ভাগ মানুষ মাছ ধরেই জীবন জীবিকা চালান। নোনা মাটিতে এক ফসলী ধান চাষ ভাল হয়। কিন্তু দক্ষিন বঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর সব্জিও হয়। তবুও এলাকার মানুষ দুবেলা পেট ভর্তি খাবার পায়না।ওখানে ভাল আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। প্রতি বছরই সাপে কাটায় বহু মানুষ মারা যায়। এই এলাকায় বিষ সংগ্রহের জন্য ToxiLogy র নানান গবেষণা কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। অবশ্য এর জন্য অনেক সাবধনতা প্রয়োজন। কারণ সামান্ন ভুল হলেই বিপদ এছাড়া
সমুদ্র মোহনায় গড়ে উঠতে পারে আধুনিক সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্র। আবহাওয়া বিজ্ঞান কেন্দ্র। আধুনিক সমাজ ব্যাবস্থায় এই সমস্ত কেন্দ্রে কাজের সন্ধান দেবে। আর্থ সামাজিক ব্যাবস্থারও উন্নতি হবে।
নদী উপকুল থেকে কিছুটা নিরাপদ দুরত্বে গড়ে উঠতে পারে ইকো নগরী। বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরী কাঠের জাহাজ বাড়ি বাসস্থান সমস্যা দুর করবে, এছাড়া বন্যা,ঝড়,এবং অন্যান্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুন্দর বনের মানুষদের রক্ষা করবে। তবে, সবকিছু নির্ভর করছে কল্যানকর প্রগতিশীল রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার উপর। নচেৎ অবহেলিত মানুষেরা বাঁচাবার জন্য ঘুরে দাড়াবেই।

No comments:

Post a Comment